ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ
মার্চেন্টস ডেভেলপমেন্ট ড্রাইভিং রুরাল মার্কেটস (এমডিডিআরএম) উদ্যোগ থেকে অর্জিত শিক্ষা ও এই উদ্যোগের অধীনে সম্পন্ন কাজ প্রদর্শনে আজ রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ‘লিভিং নো মাইক্রো মার্চেন্টস বিহাইন্ড ইন দ্য ডিজিটাল এরা ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সম্মেলনের আয়োজন করে জাতিসংঘ ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইউএনসিডিএফ)।
ইউএনসিডিএফ পরিচালিত এই সম্মেলনটি এর কনসোর্টিয়াম পার্টনার (ডিনেট, বিডিএমএস এবং এফবিসিসিআই), নলেজ অ্যান্ড কমিউনিকেশন পার্টনার জিআইএফটি এবং ইভেন্ট পার্টনার এশিয়াটিকের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পসচিব কেএম আলী আজম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশনের সহযোগিতা প্রধান মরিজিও চিয়ান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায়। ইউএনসিডিএফ’র ইনক্লুসিভ ডিজিটাল ইকোনোমিজ -এর ডিজিটাল হাব ফর এশিয়া’র আঞ্চলিক পরিচালক মারিয়া পারদোমো সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘২০১৭ সালে এউএনসিডিএফ - এর অধীনে বাস্তবায়িত এমডিডিআরএম প্রকল্পের যাত্রা শুরুর পর বাংলাদেশে মাইক্রো-রিটেইল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে। যার ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আমাদের অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।‘
বৈশ্বিক মহামারির সময়ে নতুন সুযোগের সন্ধান এবং নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, শিল্প ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেম নেতৃবৃন্দদের একত্রিতকরণ এবং এমডিডিআরএম (মার্চেন্টস ডেভেলপমেন্ট ড্রাইভিং রুরাল মার্কেটস) উদ্যোগের অধীনে পরিচালিত কার্যক্রম প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানের অন্যতম বক্তা মিস টিনা জাবিন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্টার্টআপ বাংলাদেশ বলেন, " আমরা অর্থ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করছি।"
তবে, এক্ষেত্রে, সরকার, উন্নয়ন অংশীদার এবং বেসরকারি খাত কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে যা আশু চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যে রয়েছে খুচরা ব্যবসায় সকল লিঙ্গের মানুষের অংশগ্রহণ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক এবং অ-আর্থিক উভয় ধরণের প্রয়োজন শনাক্তে ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সাপ্লাই চেইনের সমন্বয়, আনুষ্ঠানিকীকরণের ক্ষেত্রে নীতিগত উদ্যোগ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুবিধায় বৈশ্বিক মহামারির ক্ষতি থেকে উত্তরণে সহায়তা প্রক্রিয়া।
এসব বিষয়ের ওপর সম্মেলনে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এছাড়াও, সম্মেলনে ‘মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজগুলোর জন্য ডিজিটাল উদ্ভাবন—কীভাবে অ-আর্থিক পরিষেবা সংযোগ করা যায়’, ‘বৈশ্বিক মহামারি চলাকালীন ও পরে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অর্জন’, ‘বাংলাদেশের খুচরা ব্যবসায় নারীদের ভবিষ্যৎ’ এবং ‘নীতি নির্ধারক সুপারিশ: সর্বশেষ পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য উদ্ভাবনী আর্থিক সমাধান প্রদানে বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয়ে সরকারের পদক্ষেপ’ এ বিষয়গুলোর ওপরে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।